গাড়ীটানা কারিমিয়া মাদ্রাসায় চারদিন ব্যাপী বৃক্ষরোপন কর্মসুচি পালন

parvezparvez
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:২৯ AM, ১৫ অগাস্ট ২০২০

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি,গাড়ীটানা দারুল ইসলাহ্ কারিমিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় চারদিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়।

প্রাকৃতিক বিপর্যয় বাংলাদেশের এক ভয়াবহ সমস্যা। সারাবিশ্বও ভয়ঙ্কর পরিবেশ বিপর্যয়ের হুমকিতে রয়েছে। গাছ লাগানোর মাধ্যমে এই বিপর্যয় রোধের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হওয়া সম্ভব। পরিবেশকে দুষণ থেকে রক্ষা করতে এবং দেশকে সবুজ-শ্যামলিমায় ভরে তুলতে তাই বেশী করে গাছ লাগানো জরুরী। এ ব্যাপারে দেশের সকল নাগরিককে সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই।

১৯৪৭ সালে দেশের আয়তনের ২৪ শতাংশ বনভূমি ছিল। ১৯৮০-৮১ সালে তা কমে হয় ১৭ শতাংশ। বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের সর্বশেষ তথ্য মতে বর্তমানে দেশের বনাঞ্চলের পরিমান মাত্র ১৭.৬ শতাংশ। যেখানে দেশের মোট আয়তনের ২৫ভাগ বনাঞ্চল থাকা দরকার। যতটুকু বনাঞ্চল আছে সেখানেও প্রতিনিয়ত বৃক্ষ চুরি ও নিধন হচ্ছে। বন থেকে মূল্যবান বৃক্ষ নিধন, কাঠ চুরি এবং অবৈধ দখলের মাধ্যমে নানা অবকাঠামো নির্মানের ফলে বহু বনাঞ্চল উজার হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, দেশের ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক ও বিবিসি’র ২০২০ সালের তথ্য মতে, দূষণের কারণে বাংলাদেশের বছরে ৬৫০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়। যা মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপির প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ। তাছাড়া পরিবেশ দূষণের কারণে এক বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। অন্যদিকে কৃষিবিদদের মতে, ক্রমাগত বৃক্ষ নিধনের ফলে দেশের জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণসহ বহু মূল্যবান বন্য প্রাণি এখন বিলুপ্তির পথে। অসংখ্য প্রজাতির পশুপাখি ও জলজপ্রাণি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। দেশের ৫ হাজার প্রজাতির গাছের মধ্যে ১০৬টি প্রজাতি বিলুপ্তপ্রায়। ৬৩২ প্রজাতির পাখির মধ্যে ১২টি প্রজাতি একবারেই বিলুপ্ত হয়েছে আরো বিলুপ্তির পথে ৩০ প্রজাতির পাখি। ১১০টি পশু প্রজাতির মধ্যে ৪০টিরই কোন অস্তিত্ব নেই। অন্যদিকে অব্যাহতভাবে বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় সারা বিশ্বেই পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, সারা বিশ্বে বনের ওপর নির্ভরশীল বিশ্বের প্রায় ৫০ মিলিয়ন মানবজীবন সমস্যায় পড়তে পারে আগামী শতকের মাঝামাঝিতে। তিন দশমিক পাঁচ বিলিয়ন কিউবিক মিটার কাঠ ব্যবহার করে প্রতিবছর আট হাজার বর্গহেক্টর বনভূমি ধ্বংস করছে পৃথিবীর মানুষ।

বনভূমি ধ্বংস হওয়ার ফলে পৃথিবীর উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্ব-পশ্চিমের বহু বন্যপ্রাণী ও সামুদ্রিক প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে। এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার বিস্তৃত এলাকার মরুময়তা রোধে ২০ হাজার হেক্টর ভূমিতে বনায়ন-বৃক্ষায়ন করা প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যেসব দেশ পরিবেশগতভাবে হুমকির মুখে আছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। প্রতিনিয়ত যে হারে গাছ কাটা হচ্ছে সে হারে গাছ লাগানো হচ্ছে না। ফলে প্রতিবছর আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশকে প্রতিবছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবেলা করতে হয়। এতে জান-মালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিজনিত কারণে আমাদের যেমন পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে তেমনি নিজেদের অসাবধানতার কারণে সৃষ্ট বিপর্যয়ও কোনো অংশেই কম নয়।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম মৌলানা ক্বারী আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, এই ভংঙ্কর অবস্থা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বৃক্ষ। খাদ্যের উৎস, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দূর্যোগ প্রতিরোধ, চিত্তবিনোদন এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। জাতিসংঘের অধীনস্থ বিশ্ব পরিবেশ সংস্থার তথ্য মতে, একটি বয়স্ক বৃক্ষ ১০ জন মানুষের বার্ষিক অক্সিজেনের চাহিদা পূরণ করে। বাতাস থেকে ৬০ পাউন্ডের অধিক বিষাক্ত গ্যাস শোষণ ও ১০টি এসির সমপরিমাণ তাপ নিয়ন্ত্রণ করে। শত শত টন কার্বন শোষণের মাধ্যমে বায়ুর দূষণরোধ ও তাপদাহ দুপুরে প্রস্বেদনের মাধ্যমে বাতাসে প্রায় ১০০ গ্যালন পানি নির্গত করে পরিবেশ ঠান্ডা রাখে। বৃক্ষরাজি শব্দ দূষণও রোধ করে। এক হেক্টর পরিমাণ মাঝারি বন ১০ ডেসিবেল শব্দ হ্রাস করতে পারে। সুতরাং বৃক্ষরোপণের কোন বিকল্প নেই।

বর্ষাকাল সমাগত এবং এসময়টি বৃক্ষচারা রোপনের উপযুক্ত সময়। সারাদেশে বৃক্ষরোপনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একই সাথে সবাই মিলে নিজ বাড়ীর আঙ্গিনা, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদরাসাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যত বেশি সম্ভব বৃক্ষচারা রোপণ, পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। পরিবারের সদস্য এবং সহপাঠীদের এ মহৎ কাজে উৎসাহী করে তুলতে হবে। এভাবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমেই আমরা সুন্দর, সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব ইনশাআল্লাহ।

বৃক্ষরোপন কর্মসূচি মাদ্রাসার মুহতামিম মৌলানা আব্দুল ওয়াহেদ এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় ও সিনিয়র শিক্ষক ও গাড়ীটানা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব, মাওলানা মোহাম্মদ আলী ও শিক্ষাপরিচালক হাফেজ মাওলানা নাঈমুল ইসলামের প্রচেষ্ঠায় মাদ্রাসা বাউন্ডারির চতুর্দিকে এবং খালি যায়গায় বাগাননাকারে রোপন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :