নারীবাদীদের ভয়ঙ্কর রূপ বনাম একজন পর্দানশীন ক্রিকেটার মা

parvezparvez
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৪১ PM, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

নারীবাদ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Feminism. প্রথমদিকে নারীবাদী অান্দোলনকারীরা নিজেদের অাদৌ ‘নারীবাদী ‘ভাবতেন না।তারা নিজেদের ভোটাধিকার প্রার্থী বলেই অভিহিত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতো।ফেমিনিজম শব্দটি অষ্টদশ শতকের শেষের দিকে প্রথম পরিচিতি পায় ফান্সে।তখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই শব্দটি অজানাই ছিল।এমনকি যাকে বলা হয় ফেমিনিজমের প্রথম ঢেউ,সে সময়েও ফেমিনিজম শব্দটি অাসেনি।ফ্রেঞ্চ শব্দ Feminisme থেকে উৎপত্তি হয়েছে Feminism ইংরেজি শব্দটি।এটি প্রথম প্রবর্তিত হয় সমাজতন্ত্রবিদ চার্লস ফুরিয়ারের মাধ্যমে।ইংরেজি ভাষায় এর প্রথম ব্যবহার শুরু হয় ১৯৯০ সালে।পশ্চিমা দেশ গুলোতে নারীবাদী আন্দোলনের তিনটি পর্যায় ছিল।এই তিন পর্যায় থেকে নারীবাদের ধারণা অভিজাত শ্রেণি থেকে ক্রমেই হয়ে উঠেছে আপামর জনতারও।প্রথম দিকে এটি শুধু মাত্র নারীদের ভোটাধিকার প্রার্থী হিসেবে ছিল।পরে তা রূপ নেয় লিঙ্গ বৈষম্য প্রতিরোধ অান্দোলনে।বাংলাদেশে স্বাধীনতা অান্দোলনের বহু পূর্বেই নারীবাদী আন্দোলন শুরু হয়।ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে নারী কর্মীরা তাদের অধিকার অাদায়ের দাবি করতে একত্রে সংগঠিত হতো।নারীর বিরুদ্ধে সসহিংসতা, লিঙ্গ সমতা,রাজনীতিতে সমান প্রতিনিধিত্ব এবং পারিবারিক আইন সংস্কারসহ না বিষয়ে নারী কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয।নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন,রাজনৈতিক অধিকারসহ না অধিকার অাদায়ের লক্ষ্যে ৭০ ও ৮০ দশকে অান্দোলন গুলো পরিচালিত হতো নগর এলাকায়।

বাংলাদেশের নারীবাদীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কামিনী রায়,সুলতানা কামাল,বেগম রোকেয়া,সৈয়দ রাজিয়া ফয়েজ,বিতর্কিত ও নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন,সুফিয়া কামাল।প্রকৃত অর্থে নারীবাদ উপরোক্ত নারীবাদীরা ধারণ করে না।তাদের মননে মস্তিষ্কে বদ্ধমূল ইসলাম বিদ্বেষ।বিশেষ করে ইসলাম,কোরআন, হাদিস নিয়ে এসব নারীবাদীদের এলার্জির অন্ত নেই।ছলে বলে কৌশলে তারা ইসলামের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।কোথাও মুসলিম নারী যারা পর্দা মেইন্টেইন করে চলে এমন কেউ নির্যাতিত হলে এসব নারীবাদীরা আন্দোলন করে না।তখন তাদের মুখ থেকে নারীবাদের স্লোগান শুনা যায় না।যখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেউ নির্যাতিত হয় তখন তারা রাজপথে নেমে হৈ চৈ শুরু করে।মুসলমানদের ফরজ বিধান পর্দা নিয়ে তারা নিয়মিত কটুক্তি করে।এদের দৃষ্টিভঙ্গিই হলো ইসলাম বিদ্বেষ।অসাম্প্রাদায়িকতার অাবরণে তারা চরম ইসলাম বিদ্বেষী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।ইসলামের বিধি বিধান নিয়ে হরহামেশা বিতর্কিত লেখালেখি, বক্তব্য অব্যাহত রাখে।গুটিকতেক চরিত্রহীন নারীদের রাজপথে দাঁড় করিয়ে সাজে নারীবাদী।তসলিমা নাসরিন,সুলতানা কামাল,খুশি কবির,শাহারিয়ার কবির,জাফর ইকবাল,মুনতাসির মামুন এরা নারীদের সমতা নিয়ে হরদম চিৎকার করে।ব্যক্তিগতভাবে খুঁজ নিলে দেখা যাবে এরাই নারীদের ধর্ষণে মদদতদাতা।এদের একেক জন সমাজের বিশৃঙ্খল সৃষ্টির মূলহোতা।

গেল কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে ঝর্ণা আকতার নামের এক পরদানশীন নারীর ছবি।তিনি অবসরে সন্তান কে নিয়ে পল্টন ময়দানে ক্রিকেট খেলতে যান।হঠাৎ তিনি সাংবাদিকের চোখে পড়ে যান।সাংবাদিকরা তার কাছ থেকে সাক্ষাত নেন।মুহুর্তেই বিশ্বব্যাপি ভাইরাল হয়ে যায় সন্তানের সাথে ক্রিকেট খেলার দৃশ্য।প্রথমে দ্যা ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলো পত্রিকায় তার খেলার দৃশ্য এবং সাক্ষাতকার প্রচার করা হয়।প্রথম অালোর সাংবাদিকরা সাক্ষাতকার নিলে তিনি বলেন, আমি মুন্সিগঞ্জের মেয়ে।আমি জেলা টপার ছিলাম।তাছাড়া আমার ভাইও জাতীয় ক্রিকেটার। তার ক্রিকেট খেলার দৃ্শ্য ভাইরাল হলে, দুই ধরণের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।মুক্তমনা, নাররীবাদীদের প্রতিক্রিয়া দেখে আমি তেমন অবাক হয়নি।কারণ একজন হিজাবি নারী ক্রিকেটার এতেই তাদের এলার্জি।সে যদি পর্দাহীন মার্কিন স্টাইলে ক্রিকেট খেলতো তখন প্রতিক্রিয়া পজিটিভ হতো।এখন প্রতিক্রিয়া হয়েছে চরম নেতিবাচক ও বিদ্বেষপূর্ণ।এতেই প্রমাণিত হয় ওরা নারীবাদী নয়, নারী লোভী।তাদেে কাজই হলো নারীদের পণ্যরূপে সমাজের মাঝে উপস্থাপন করা।ঝর্ণা আকতার তার সন্তানকে হাফেজ বানাবেন।সাথে সাথে জাতীয় পর্যায়ের দক্ষ ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলবেন।এতেই নারীবাদীদের এলার্জির সীমা নেই।ওদের হাঁটতে,বসতে,ঘুমাতে এক কথায় সর্বাবস্থায় তারা ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদগারে লিপ্ত। নারীবাদের মুখোশ পড়ে তারা নারীদের সমাজ বিচ্ছিন্ন করে বিপদে পরিচালিত করছে।

লেখকঃ নুর আহমেদ সিদ্দিকী( সাহিত্যিক ও ককলামিষ্ট)

আপনার মতামত লিখুন :