নরপিশাচ মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা চাই | মতামত | কানিছুর রহমান

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৫৭ PM, ০৯ অক্টোবর ২০২০

মোহাম্মদ কানিছুর রহমান উপ-রেজিস্টার মাওলা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, টাঙ্গাইল।

একজন মানুষ তার দুটি হাত, দুটি পা, দুটি চোখ, নাক মুখ সবই দেখা যায়। আসলে সে মানুষ কিনা তা বুঝার কোন দৃষ্টি গোচরিভুত কিছু নেই। এই না থাকাটাই হয়ত এই পৃথিবীর আজব এক খেলা। তাইত বলা যায় সহজেই খেলারাম খলে যা। এই খেলাটাই আমাদের জন্য হয়ে পরেছে কাল। কালের বিবর্তনে মানুষগুলো আর মানুষ আছে কিনা আমরা জানি না। আমরা জানিনা মানুষের মধ্যে সম্পৃতির বন্ধন কতটুকু দৃঢ়। তাইত আজ নিজের চারপাশে প্রতিনিয়ত নখদন্ত পরিবেষ্টিত মানুষগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছ নিজের মত করে। যার নখদন্ত গুলো হিংস্র জানোয়ারের মত খামচে ধরছে আমার আর আমাদের মত মানুষগুলো। তাদের কাছে আমরা নিরাপদ নই। নিরাপদ নয় তার আপন জনেরাও। তারা বিবেক বুদ্ধি বিবর্জিত হয়ে আজ নখর বসাচ্ছে আপন স্বজাতিকে। মানুষ বলে ভাবতে আজ নিজেকে খুব লজ্জাবোধ করি। যে মানুষ আজ স্বজাতির কাছে নিরাপদ নয়, যে মানুষ আজ নিজের কাছে নিরাপদ নয়। নির্বিঘ্নে পথ চলতে পারেনা তার স্বজনের সাথে। যে শিশুটি তার পৃত্বিতুল্য শিক্ষকের কাছে আজ নিরাপদ নয়। যে বোনটি তার জীবনসাথীর সাথে হাতে হাত রেখে আজ আর রাতের তারা দেখতে পারেনা। কি হবে সে জোসনার আলোর চাদর বিছিয়ে। যদিবা তাতে অবগাহন নাই করা যায়। কি হবে আমার বৃস্তিত পান্তর দিয়ে যদিনা গাঁয়ের কুলবধু পালতেলা নৌকার মত আগলা চুলে শাড়ীর আচল উড়িয়ে ছুটেই চলতে না পারে। আমি তোমাদের এ নগর সভ্যতা চাইনা। আমি চাইনা এই ইট পাথরের দালানকোঠা। তেমাদের এ পাথুরে সভ্যতা রেখে আমাকে আমার অরণ্য ফিরিয়ে দাও। যেখানে কুকিল কুহুতানে গান করবে। যেখানে শিশু তার মনের আনন্দে ছুটে চলবে। অস্তাচলে কুলবধু জল তুলে নির্বিঘ্নে বাড়ী ফিরবে। আমাকে সেই অরণ্য ফিরিয়ে দাও যেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ব্যাজি খেলা করে। আমাকে ফিরিয়ে সেই জনপদ যেখানে কুঁড়েঘরে দিনমজুর তাঁর কুলবধুর সাথে রাত্রি যাপন করে। সেখানে তাঁর ভাঙ্গা ঘরে চাঁদের আলো চুইয়া চুইয়া পরে। কোন মানুষ রূপি হিংস্র জানোয়ার কুলবধুর সম্ভ্রম হানির জন্য ভাঙ্গা ঘরে আক্রমণ করেনা। আমাকে এমন কিছু মানুষ দাও যারা শিক্ষিত নয় কিন্তু মানুষকে সম্মান করতে জানে। যারা কাধে কাধ মিলিয়ে চলতে পারে আর বলতে পারে আমরা মানুষ। মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ব জাগ্রত হোক, জাগ্রত হোক বিবেক। আর কোন নারী শিশু আর কোন মা বোন তার সম্ভ্রম যেন না হারায়। আর যেন আমাদের মানুষ হিসেবে ভাবতে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ না হয়। আমরা মানুষ হিসেবে বাচতে চাই। আমরা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব এ কথাটা বলতে আমাদের যেন একটুও দ্বিধান্বিত দতে না হয়! যেমন আজ আমার বোনটির জন্য আমার সন্তানের জন্য হৃদয়ের গভীরে ক্ষত হয়ে আছে। জানিনা এ ক্ষত কখনো শুকাবে কিনা। তারপরও চাই আমরা যেন মানুষের মত মানুষ হতে পারি। কোন নরপশু যেন আর কোন মা বোনকে ক্ষত বিক্ষত না করতে পারে। এসব পৈশাচিক নরপশুদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। চাই নরপিশাচ মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা।

আপনার মতামত লিখুন :