কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় ইসলামী আন্দোলন

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:০৬ AM, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১

রাজনীতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) বর্তমানে একটি বয়ান দাঁড় করাচ্ছে তা হলো আওয়ামী লীগ বিএনপি দুই দলের প্রতি এদেশের আপমর জনতার আস্থা ও বিশ্বাস নেই।সম্প্রতি আইএবি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শুরা অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য আইএবির সিনিয়র যুগ্নমহাসচিব জনাব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এমনটি দাবি করেন।তাঁর যুক্তি আমার ভালো লেগেছে।সরকার ও বিরোধী দলের প্রতি জনগনের অাস্থা নেই।বিরোধী দলের প্রতি জনগনের যদি আস্থা থাকতো তাহলে তাদের ডাকে জনগন সরকার পতনে নামছে না কেন?

তিনি জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল বলতে নারাজ। কারণ আওয়ামী লীগ যদি জাতীয় পার্টিকে ছুড়ে মারে তাহলে তাদের আর কোন উপায় থাকবেনা।তাদের জনভিত্তি নেই।নেই রাজনৈতিক কর্মকান্ডও।স্বাধীনতার পর থেকে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এই তিন দলই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।কিন্তু তাদের উপর জনগনের কোন আস্থা নেই।সরকারের প্রতি জনগনের আস্থা নেই এবং জনগনের প্রতিও আওয়ামী লীগ সরকারের আস্থা নেই।সেই কারণে সুষ্টু নির্বাচন দিতে তারা ভয় পায়।

এর আগে একই কথা দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম শায়েখে চরমোনাইও বলেছিলেন।তারা যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে সব দলের অংশগ্রহণে সরকার গঠন করবেন।আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে বিএনপির নিরাপত্তা থাকেনা আর বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।কিন্তু ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় গেলে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের মতে,তারা জনকল্যাণমূলক একটি ইনসাফ ভিত্তিক সরকার গঠন করতে চায়।

কোন কারণে যদি বিএনপি জামায়াত ফের ক্ষমতায় যায় তাহলে দেশে কয়েক লাখ মানুষ খুন হবে।সেটা আমি বলছি না,গেল একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রাককালে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছিলেন।ক্ষমতা হারালে পরিণতি কারো ভালো হবেনা বলে,মন্তব্য করেছেন, আওয়ামী লীগেে সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের।দেশের জনগনও জানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতাহীন হলে তাদের কি পরিণতি হবে।ইতোমধ্যে সরকার অাল জাজিরার অনুসন্ধানি প্রতিবেদনে বিব্রত।কি করবে,কিভাবে করবে দিশেহারা।

আইএবির বয়স ৩৩ বছর চলছে।তাদের রাজনৈতিক গতিশীলতা ভিন্ন বার্তা দেয়।তাদের দলে যোগ দিচ্ছেন এলিট শ্রেণির লোকজন।সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডক্টর অাব্দুল লতিব মাসুম আইএবিতে যোগ দিয়েছেন।ডক্টর আ ফ ম খালিদ হোসেন,ডক্টর বেলাল নুর আজিজি,ইনকিলাব পত্রিকার সরকারী সম্পাদক আল্লামা ওবায়দুর রহমান খান নদভীর মত যোগ্য লোক এখন আইএবির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা।আজ দেখলাম,বরিশাল মহানগর যুব দলের সাবেক সহসভাপতি আইএবিতে যোগ দিলেন।

আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ বিভিন্ন দল থেকে নিয়মিত আইএবিতে যোগ দিচ্ছেন।কিন্তু সেসব মিডিয়ায় ফোকাস হয়না।গেল বছর জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি প্রফেসর ডাক্তার অাক্কাস অালী সরকার আইএবিতে যোগ দিয়েছেন।আইএবি যে একটি সম্ভাবনাময় দল তা ইতোমধ্যে এলিট শ্রেণি বুঝতে শুরু করেছে।সাবেক আমলাদের অনেকেই এখন আইএবিতে যুক্ত।আইএবির গ্রহণযোগ্যতা অভিজাত শ্রেণিতে বাড়ছে তা বানান করে বলার প্রয়োজন নেই।দলীয় হাইকমান্ডের বক্তব্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হচ্ছে তারা ক্ষমতায় গেলে ঐক্যমতের সরকার গঠন করবেন।তাদের নিকট অন্যান্য রাজনৈতিক দল যেমন নিরাপদ হবে ঠিক তেমনি সংখ্যালঘুরাও নিরাপদে থাকবে।

আইএবি ক্ষমতায় গেলে সংখ্যালঘুরা কতটা নিরাপদে থাকবে তা বরিশাল চরমোনাই ইউনিয়নের সংখ্যালঘুদের দেখলে বুঝা যায়।বামপন্থি এবং ইসলাম বিদ্বেষীরা একটি বানায়োটা, মনগড়া বয়ান প্রচার করে,ইসলামী দল ক্ষমতায় গেলে চোরের হাত কাটবে।ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় স্বভাবি চোরের হাত কাটে, অভাবি চোরের নয়। সুতরাং এখন ব্যাপকভাবে বলা উচিত আইএবি ক্ষমতায় গেলে স্বজনপ্রীতি হবেনা। সরকারি পদে দলীয়করণ হবেনা।সরকারী দল,বিরোধি দল, অসহায় গরিব সবার অধিকার নিশ্চিত হবে।সব থেকে বড় কথা সবার নিরাপত্তা নিশ্চয়তা তারা যে দিবেন তা শতভাগ সত্যি।ইতিহাস বলে,যেখানে ইসলামী শাসন ছিল সেখানে ধনি গরিব কোন ভেদাভেদ ছিলনা।আইএবি নেতাদের এই বয়ান তৃণমূল পর্যায়ে পৌছানো দরকার।তাহলে জনগন আইএবির প্রতি আরো অাগ্রহী হবে।

লেখকঃনুর আহমেদ সিদ্দিকী

আপনার মতামত লিখুন :