গণতান্ত্রিক নির্বাচন,গণদাওয়াত ও গণবিপ্লব || নুর আহমেদ সিদ্দিকী

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:১০ PM, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১

গণতন্ত্র কুফরি সেটা বুঝলাম কিন্তু এই গণতান্ত্রিক সিস্টেম চেইঞ্চ করার কোন উপায় বের করছেন কি? যারা গণতান্ত্রিক দেশে ইসলামী রাজনীতি করে তাদের আপনি হেয় করছেন।গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসলামী হকুমত কায়েম সম্ভব নয় সেটা আমরাও বলি। কিন্তু কোন পদ্ধতিতে সহজে ইসলামী হকুমত কায়েম করা যায় সেটা একটু পরিস্কার করে বলা উচিত।গেল চসিক নির্বাচনের দিন আপনি পোস্ট করলেন গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয়।দাওয়াহ্কে সমাজ পরিবর্তনের একমাত্র কার্যকরী পদ্ধতি বলে মত প্রকাশ করলেন।রাজনীতি দিয়ে সমাজ পরিবর্তন হতে পারেনা বলে দৃঢতার সাথে পাবলিক প্লেইসে ঘোষণা দিয়েছেন।

ইসলামী গণতন্ত্র বলে, ইসলামী পৌত্তলিকতা বলে ইঙ্গিত কাকে করেছেন বুঝতে বাকি নেই।আঙ্গুরের নাগাল না পেলে আঙ্গুর ফল তো টক হবেই।সামাজিকভাকে আপনারা জনবিচ্ছিন্ন। নেই কোন কর্মকান্ড। সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু উগ্র সমর্থকের কারণে বেশ কিছু লাইক কমেন্ট হয়।কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরে আপনাদের কর্মকান্ড নেই সেটা বানান করে বলার দরকার নেই।এক সময় আপনিও রাজনীতি করেছেন।রাজনীতিতে ব্যর্থ হয়ে এখন ভুলভাল বকছেন।এটা শিয়ালের আঙ্গুর ফল টক থিউরির মত হয়ে গেল না? শহীদ মিনারে কুরআন খতম করা,শহীদদের জন্য দোয়ার আয়োজন করা কে ইসলামী পৌত্তলিকতা বলে হেয় করেছেন।কিন্তু স্বাধীনতা দিবস,শহীদ দিবসসহ জাতীয় দিবস গুলো ইসলামপন্থীদের কোন কর্মসূচি না থাকায় চেতনা ব্যবসায়িরা ইসলামপন্থীদের দেশ ও স্বাধীনতা বিরোধী বলে কটুক্তি করে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সেই চেতনা ব্যবসায়িদের গালে চপেটাঘাত করতে শুরু করেছে।শহীদ মিনারে কুরআন খতম এটা ইসলামের বিধান হিসেবে তারা পালন করছেনা।এটা বামপন্থী সুশীল সমাজ ও চেতনা ব্যবসায়িদের চপেটাঘাত মাত্র।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বিজয় দিবসে যেভাবে মাঠে নামছে তা পাঁচ বছর আগেও কল্পনা করা যেতনা। বামপন্থী সুশীল সমাজ তথা চেতনা ব্যবসায়িরা দেশপ্রেমের নামে যে লৌকিকতা দিয়ে ইসলামপন্থীদের দেশ ও স্বাধীনতা বিরোধী বলে কটুক্তি করে,সেই লৌকিকতা দিয়েই তাদের চপেটাঘাত করছে শায়েখে চরমোনাই ও তাঁর দল।শহিদ মিনার,স্মৃতিসৌধ, শাহাবাগ চত্তর নাম্তিকদের অভয়ারণ্য বলেই জানতো এদেশের মানুষ।।কিন্তু ইশা ছাত্র আন্দোলন সেই জায়গায় তাদের পদচারণা বাড়িয়েছে।যুক্তির খাতিরে যদি ধরে নেন ইশার এসব কর্মকান্ড লৌকিকতা।আমার প্রশ্ন বামপন্থি সুশীল সমাজ ও স্বাধীনতার চেতনা ব্যবসায়িরা যদি লৌকিকতার মাধ্যমে নিজেদের দেশপ্রেমিক হিসেবে পরিচিত করতে পারে তাহলে তাদের চপেটাঘাত করতে ইশার লৌকিকতা কে সাদরে গ্রহণ করা উচিত নয় কি?

ঢাবিতে হিজাব দিবস পালন করতে গিয়ে ঢাবি ইশারা নেতারা হামলার শিকার হলেও আপনারা প্রতিবাদ করতে পারেননি।কওমী মাদরাসার চার দেয়ালে বসে ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়া যতটা সহজ মাঠে ময়দানে দাওয়াতি কাজ ততটা কঠিন।বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি হলো নির্বাচন।নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ এখন অনেকটা বন্ধ।কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইসলামের পক্ষে জনমত তৈরি করারা সহজ ।গণবিপ্লবের জন্য প্রয়োজন গণদাওয়াত।নির্বাচন হলো গণদাওয়াতের অন্যতম মাধ্যম।বাংলাদেশের খেয়ে পরে,দেশের সংবিধান মোতাবেকক,বিবাহ,জন্ম মৃত্যুসহ যাবতীয় কার্যাদি সম্পন্ন করার পর গণতন্ত্র কুফরি কুফরি বলে চিৎকার হাস্যকর।ইশার কর্মকান্ড কে ইসলামী পৌত্তলিকতা বলে কটুক্তি করা সহজ কিন্তু তাদের মত গণমুখী রাজনীতি করা কঠিন।

তাদের ভালো কাজের প্রশংসা করতে দেখলে বুঝতাম দাওয়াতি মানসকিতা থেকে সমালোচনা করেন।তাদের ভালো কাজের প্রশংসা না করে সামান্য ত্রুটি পেলে উলঙ্গ সমালোচনা করা হিংসাত্বক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।গতকাল ইশা নেতা মালেশিয়া মাহশা ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বারের মত ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন।আপনি যদি তাদের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে সমালোচনা করতেন তাহলে নিশ্চয়ই আপনি সেই ভিপিকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট করতেন।শুধু তাই না,ইশার বহু ভালো কাজ আছে যা সার্বজনীনভাবে প্রশংসিত হয়।কিন্তু আপনি/ আপনারা তাদের ভালো কাজ গুলো চোখে দেখেন না।ছলে বলে কৌশলে ফতোয়া দিয়ে তাদের কর্মকান্ড কে বাধাগ্রস্ত করতে চান।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সাথে হাজারো হাজার বিজ্ঞ, আলেম,মুফতি মুহাদ্দিস আছে।শরিয়াতের বাইরে কিছু হলে তারা শোধরাতে যথেষ্ট।

লেখকঃনুর আহমেদ সিদ্দিকী

আপনার মতামত লিখুন :