উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে শুরু হলো চরমোনাই ফাল্গুনের মাহফিল

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:৪৯ AM, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১

ঐতিহাসিক চরমোনাই ফাল্গুনের মাহফিল শুরু হয়েছে আজ। মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই-এর বয়ানের মধ্য দিয়ে আজ ২৪ ফেব্রুয়ারী এ মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

জোহরের নামাজের পর কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বয়ান শুরু হওয়ার পর পীর সাহেব চরমোনাই পবিত্র কুরআনের সূরা আনআমের ১৬২ নং আয়াত তেলাওয়াত করে বয়ান শুরু করেছেন। তিনি আয়াতের প্রাসঙ্গিকতার সাথে সাথে বলেছেন – আমাদের সকল কাজ একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যই হতে হবে।

উদ্বোধনী বয়ানে মাহফিলের দিক-নির্দেশনামূলক আলোচনা করেন মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম। তবে বয়ানের শুরুতেই তিনি মাহফিলে আগত ৭ জন মুসুল্লির ইন্তেকাল বিষয়ে শোক প্রকাশ করে তাদের জন্য দোয়া করেন।

তিনি বলেন – আমরা মাহফিলের তেমন কোন সুন্দর ব্যবস্থাপনা করতে পারিনি। মাহফিলে কষ্টের কোন শেষ নেই তারপরও আপনারা যারা মাহফিলে এসেছেন এবং কষ্ট করে বসে বয়ান শুনছেন তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন সবাইকে কবুল করে নেন।

মুফতী রেজাউল করীম তার বাবা মরহুম চরমোনাইর পীর সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. এর বরাত দিয়ে বলেন – ‘আব্বাজান রহ. বলতেন, “চরমোনাই মাহফিলের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ ভোলা মানুষকে আল্লাহ তায়ালার সাথে সম্পৃক্ত করে দেয়া”। তাই যারা মাহফিলে উপস্থিত হয়েছেন তারা নিয়ত পরিবর্তন করে একমাত্র আল্লাহ তা’আলার জন্য এই মাহফিলে এসেছেন বলে নিয়ত করে নেবেন। চরমোনাই মাহফিল কোন মামলা মোকাদ্দমার তদবির করার জন্য ব্যবস্থা করা হয়নি। তাই এ নিয়তে কেউ আসবেন না। কেউ এ নিয়ত করেও এখানে আসবেন না যে আপনার এলাকায় চরমোনাই সমর্থকদের কিছু সহযোগিতা পাবেন। এসব কোন নিয়ত করবেন না কেউ। দুনিয়ার কোন চাহিদার জন্য এ মাহফিলে যদি কেউ এসে থাকেন তাহলে অবশ্যই তাদের নিয়ত পরিবর্তন করে নিন।

এছাড়াও মাহফিলে চলাচল করা ও সার্বিক বেশকিছু বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করীম। বিশেষ করে চলাফেরা বেশি না করে মাহফিলে বয়ান শোনাসহ জিকির আজকারে বেশি সময় কাটাতে অনুরোধ করেছেন তিনি।

উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর মাহফিলের বয়ানের কার্যক্রম শুরু হবে মাগরিবের পর সৈয়দ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাইর বয়ানের মাধ্যমে। এরপর তিনদিনব্যাপী ধারাবাহিকভাবে বয়ানের মাধ্যমে মাহফিল পরিচালিত হবে।

প্রসঙ্গত : চরমোনাই বাৎসরিক ফাল্গুনের মাহফিল এবছর মানুষের সমাগম অনেক বেশি। প্রায় পাঁচটি মাঠে ৩০০ একর জায়গাজুড়ে মানুষের উপস্থিতি হয়েছে। মাহফিল শুরু হওয়ার দুদিন আগেই প্রায় পাঁচটি মাঠে মানুষের সমাগম হয়েছে। মাহফিল কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে – এ বছর প্রস্তুত হওয়া পাঁচটি মাঠের আয়তন প্রায় ৩০০ একর জায়গা। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকবে মুসুল্লিরা। দোকানপাট, রাস্তাঘাট বাদ দিলে প্রায় আড়াইশ একর জায়গায় ষাট হাজার খুটির মাধ্যমে মুসুল্লিদের জন্য সামিয়ানা প্রস্তুত করা হয়েছে।

চরমোনাই মাদরাসা ময়দান প্রথম মাঠ, মাদরাসার অপজিটে পূর্ব দিকে দ্বিতীয় মাঠ, মাদরাসার উত্তর পশ্চিম দিকে তৃতীয় মাঠ, উত্তর পূর্ব দিকে চতুর্থ মাঠ এবং এ বছর নতুন করে চতুর্থ ও দ্বিতীয় মাঠের অপরদিকে বৃহত আকারে পঞ্চম মাঠের ব্যবস্থাপনা হচ্ছে বলে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে।

মাহফিলে শ্রোতাদের জন্য এ বছর প্রায় চার হাজার মাইক বসানোর ব্যবস্থাও হচ্ছে বলে পাবলিক ভয়েসকে জানিয়েছেন লাইট মাইক বিভাগের দায়িত্বে থাকা উধ্বর্তন একজন দায়িত্বশীল।

বাংলাদেশে সর্ববৃহত গণজমায়েত হিসেবে চরমোনাই ফাল্গুনের মাহফিলকে অনেকে বিবেচনা করে থাকেন। প্রতিবছর ফাল্গুনে এ মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

মাহফিল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে – আগামি ২৪ ফেব্রুয়ারী বুধবার জোহরের পরে চরমোনাইর বর্তমান পীর সাহেব সৈয়দ রেজাউল করীমের উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে শুরু হয়ে ২৭ তারিখ শনিবার আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে এ বছরের মাহফিল কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন :