মাদরাসা শিক্ষার্থীর উপর বেত্রাঘাত বনাম ভবিষ্যত ভাবনা

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৫৮ AM, ০২ মার্চ ২০২১

শিরোনাম দেখে অনেকেই চমকে উঠতে পারেন।মাদরাসায় শিক্ষার্থীর উপর বেত্রাঘাত হয় তা যেমন সত্য,এর চেয়ে কঠিন সত্য হলো স্কুলেও শিক্ষার্থীদের উপর বেত্রাঘাত বা নির্যাতন হয়।কবি রবীন্দ্রনাথের মতে,শাসন করা তারই সাজে সোহাগ করে যে।শিক্ষক তো একজন অকৃত্রিম বন্ধু।প্রকৃত শিক্ষক তো তিনি যার সাথে সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করা যায়।শিক্ষার্থীর সাথে পিতা মাতার ন্যায় আদর স্নেহ যেমন করবে ঠিক তেমনি প্রয়োজনে শাসনও করবে।এটাই একজন আদর্শ শিক্ষকের চরিত্র। যিনি আদর করে, প্রয়োজনে তিনি শাসনও করতে পারে।আমাদের এক শিক্ষক বলতেন,মা বাবা জন্ম দেয় ভূত শিক্ষক তারে পিটিয়ে করে সত্যিকারের পুত।তাই বলে অমানবিক শাস্তি গ্রহণযোগ্য হবেনা।

 

হিফ্জখানায় শিক্ষার্থীদের কঠোর চাপে রাখতে গিয়ে অনেক সময় বেত্রাঘাত বা শাস্তি মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায়।এতে মাঝে মাঝে হিতে বিপরীত হয়।শিক্ষক তো পিতা মাতার মতই। কিন্তু কিছু শিক্ষকের আচরণে মানবিকতার লেশমাত্র নেই।বিশেষ করে যারা শুধু মাত্র হিফ্জ শেষ করে প্রাইভেট মাদরাসা বা হিফ্জখানায় শিক্ষকতা করে তাদের মধ্যে মানবিকতার গুণ খুব কমই লক্ষ্য করা যায়।যারা হিফ্জের পাশাপাশি দাওরায়ে হাদিস তথা তাকমীল সম্পন্ন
করারর পর শিক্ষকতা করে তাদের মধ্যে মানবিকতার গুণ পরিলক্ষিত হয়।কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকতেই পারে।বিশেষ করে শহর কেন্দ্রিক ভাড়া বাসা নিয়ে গড়ে উঠা প্রাইভেট মাদরাসা গুলো কম বেতন দেওয়ার নিয়তে হিফ্জ শেষ করা অল্প বয়স্ক হাফেজ নিয়োগ দেন।যার ফলে নানান সমাস্যার সৃষ্টি হয়।হয় শিক্ষার্থীকে মাত্রাতিরিক্ত বেত্রাঘাত করে,না হয় বলৎকারের মত জঘন্য কর্ম সাধন করে।ফলশ্রুতিতে মাদরাসা বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিচালক চরম বিপাকে পড়ে।

কম বেতন প্রদানের মানসিকতা থেকে সৃষ্টি হয় জটিল সমাস্যা।অল্প বয়স্ক হাফেজ সাহেবগন শিক্ষার্থীদের মন মানসিকতা বুঝে উঠতে পারেনা।মাদরাসায় ঐতিহ্যগতভাবে বেত্রাঘাত একটু বেশিই হয়।সেই কারণেই হয়তো ছাত্ররা শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন করে।বেত্রাঘাত করবেন কিন্তু তা যেন গরু পিটানোর মত না হয়। ইংরোজিতে একটি প্রবাদ আছে তা হলো-Baby is like to monkey ( শিশুরা বানরের মত)।এদের শুধু আদর করলে হবে না শাসনও করা চাই।বাদশা হারুন অর রশিদের একটি বানর ছিল।বাদশা প্রতিদিন ঐ বানর কে তিন পিটা দিতো।একদিন বাদশার এক মন্ত্রী বললনে,হুজুর এই বানর তো আপনার কোন ক্ষতি করেনা, তবুও কেন পিটান?

বাদশা হারুন অর রশিদ কোন উত্তর দেয়নি।বাদশা মনে মনে সিন্ধান্ত নিল লাগাতার তিন পিটাবেনা।প্রথম দিন বানরটি বাদশার কক্ষে প্রবেশ করে।দ্বিতীয় দিন বাদশার পাশে গিয়ে বসে আর তৃতীয় দিন বাদশার খাটে প্রশ্রাব করো দেয়।তখন বাদশা মন্ত্রী কে বললো,উত্তর পেয়েছো তো কেন বানর কে পিটায়?এই কারণে শিশুদের আদর আর শাসন দুটিই দিতে হয়।আদরের চেয়ে শাসন যাতে বেশি না হয় তাও স্মরণ রাখা চাই।অনেক মাদরাসায় শিক্ষকদের যথাসময়ে বেতন প্রদান করা হয়না।এমনও আছে তিন চার মাসের বেতন বাকি থাকে।অপরদিকে তারা সাংসারিক বিভিন্ন চিন্তায় থাকে।সেই প্রভাব পরে শিক্ষার্থীর উপর।বেশ কিছু প্রাইভেট মাদরাসা ব্যবসায়িক মানসিকতা থেকে গড়ে উঠে।শিক্ষকতার যোগ্যতা নেই এমনও অনেক হাফেজ- মাওলানা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে মাদরসা গড়ে তুলে।মাদরাসা গড়ে তুলে নিজেকে প্রভূ ভাবতে শুরু করে।যথাসময়ে শিক্ষকদের বেতন না দিলে নিজ সংসার ও অন্যান্য খরচ ঠিকই সামলে নেয়। সব প্রাইভেট মাদরাসার টিত্র একই নয়।অনেক মাদরাসার পরিচালক মানবিকও হয়।শিক্ষার্থীদের উপর মাত্রাতিরিক্ত বেত্রাঘাতের জন্য শুধু শিক্ষক দায়ী নয়,এতে পরিচালকও দায়ী।তাই পরিচালক এবং শিক্ষক উভয় কে সতর্ক হতে হবে।

লেখকঃনুর আহমেদ সিদ্দিকী

আপনার মতামত লিখুন :