চরমোনাইর মাহফিল বিতর্ক ও বাস্তবতা

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:০৮ PM, ০২ মার্চ ২০২১

আমাদের গ্রামের ভাষায় একটি কথা প্রচলন আছে তা হলো,ছাইল্লা বেছতে বেছতে মাথার চাম গেছে, আর সে এখন জিজ্ঞাসা করছে ছাইল্লার দাম কত? চরমোনাই তথা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কে আওয়ামী লীগের দালাল বা বি টিম বলে।এই ভার্শন অনেক পুরানো।সেই ভার্শনের চর্চাকারী যখন অন্যকে বি টিম বলে তখন সত্যিই হাসি পাই।জামায়াতি ইসলামী তো সব ঘাটের জল খায় কিন্তু দিন শেষে তারা সাধু।এবার চরমোনাইর বার্ষিক মাহফিলে শীর্ষ আলেমদের উপস্থিতি এবং আম জনতার উপচে পড়া ভিড় জ্ঞানীদের নতুন করে ভাবতে শেখালেও হিংসুক আর মুনাফিকদের অন্তর অাত্মা জ্বলে ছাঁই হয়ে যাচ্ছে।ওলামা সম্মেলনে মাওলানা মুজিবুর রহমান নামের এক অতিথি, বক্তব্যে বলেছেন,রাজনীতিতে অন্যান্য ইসলামী দল নিঃশেষ হয়ে গেছে।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখনো সমহিমায় সমোজ্জল।

এতেই অনেকের এলার্জি বেড়ে গেছে।কথা কিন্তু বাস্তব।তবে ঐক্যের খাতিরে না বলা শ্রেয় ছিল।উনি যখন বলেই ফেললেন তখন কি আর করার।তাছাড়া এটা তাঁর ব্যক্তিগত বক্তব্য।এটা নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে ঘিরে হিংসাত্বক অপপ্রচার কোন বিবেকবান লোক করতে পারেনা।কিন্তু কতেকে এটা নিয়ে নির্জলা মিথ্যাচারে মেতেছে যা আদৌ কাম্য নয়।জামায়াতের বক্তা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী বলেছেন,আপনারা তলে সরকারের বি টিম।ফেইসবুকে তাঁর লেখাটা দেখে অনেকক্ষণ হাসলাম।যাদের জন্মই দালালি দিয়ে তারা অন্যজনকে দালাল বা বি টিম বলা কতটা নির্লজ্জতা ভাবা যায়?তাদের দল জামায়াত আওয়ামী লীগ,বিএনপি,জাতীয় পার্টি কার দালালি বাদ রেখেছে বলেন তো?

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলতে শুরু করেছে বর্তমানে জামায়াতই সরকার বা আওয়ামী লীগের বি টিম।তারা নীরবে নিভৃতে।হাজারো অন্যায়ে জামায়াত নিরব কেন? কাউকে বিনা কারণে ঢিল ছুড়লে সেটা নিজের দিকে ফিরে আসে প্রতিশোধ নিতে।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে দালাল বলে দমিয়ে রাখার সময় আর নেই।জনগন এখন সেই পুরানো ভার্শন খায়না।অনেকে নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মকান্ড ফেলে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে রাজনৈতিক ফায়দা হাছিলে মরিয়া।এরা সুযোগ ফেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কে ঘায়েল করতে চায়।গতকাল শেষ হওয়া চরমোনাইর ঐতিহাসিক মাহফিলের অনেক ভালো দিক আছে যা প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু তা না করে, কে কি বক্তব্য দিয়েছে তা নিয়ে চরমোনাইর চৌদ্ধগোষ্ঠিকে উদ্ধারে নেমেছে।আপনারা এতো সংকীর্ণমনা কেন?

আপনারাই তো ঐক্য চায় বলে মঞ্চে গলা ফাটান আর অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু উগ্র কর্মীদের লেলিয়ে দেন।এটাই কি ঐক্যের মানসিকতা? প্রকৃত ঐক্য চাইলে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তর জমায়েত চরমোনাইর মাহফিলোর ভালো দিক নিয়ে প্রশংসা করতেন,মাহফিলের সফলতা কামনা করতেন।দিন কে দিন চরমোনাইর মাহফিলে লোক সংখ্যা বাড়ছে।৭০ লক্ষ,৯০ লক্ষ সেই সংখ্যা নিয়ে বিতর্কে যেতে চাইনা।প্রতি বছর যে মাহফিলে লোক সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে তা অস্বীকার করার জোঁ নেই।এটা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট।দেশের শীর্ষ আলেম,মুফতি,মুহাদ্দিস, রাজনীতিবিদ সবাই এক বাক্যে স্বীকার করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনীতিতে বিকল্প শক্তি।

মনে রাখবেন,অপপ্রচারও এক প্রকার প্রচারণা।এবার চরমোনাইর মাহফিল পরবর্তী অপপ্রচারের কারণে সব চেয়ে বেশি প্রচার হয়েছে।অপপ্রচারের কারণে অন্তত যারা চরমোনাইর মাহফিল সম্পর্কে জানতোনা তারাও জানতে পেরেছে।রাসূল ( সা) এর জামানায় কাফেরগন মহানবী( সা) কে পাগল বলে জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন করার নতুন কৌশল নিয়েছিল।কিন্তু তাদের সেই কৌশল হালে পানি পায়নি।পাগল মুহাম্মদ কে দেখতে গিয়ে হাজার হাজার কাফের মুসলমান হয়ে ফিরে আসছে দেখে কাফেরদের মাথা ঘুরে যায়।পরে তারা রাসূলকে হত্যা চেষ্টা করেন।কিন্তু ইতিহাস বলে, তারা ধ্বংস হয়েছে।রাসূল ছিলেন সমহিমায়। অনেকে অপপ্রচার চালায় চরমোনাই কবর পুজা হয়,শিরক বেদাত হয়।আর এই অপপ্রচারে শুনে অনেক লোক দেখার নিয়তে চরমোনাইর মাহফিলে যায়।গিয়ে যখন দেখে,সেখানে সুন্নাতের পরিপন্থী কোন কাজ হয়না তখন ঐ লোক গুলো চরমোনাইর পক্ষের লোক হয়ে যায়।

এবার চরমোনাইর মাহফিলের ওলামা সম্মেলনে
হেফাজতে ইসলামের সম্মানিত মহাসচিব তাঁর উস্তাদ ও হাটহাজারি মাদরাসার সাবেক মোহতামিম হযরত মাওলানা হামিদ সাহেব( রহ) একটি স্মৃতি বর্ণনা করেছেন।তিনি যখন চরমোনাইর মাহফিলে গিয়েছিল তখন এক লোক ডান পা দিয়ে, টয়লেটে প্রবেশ করেছিল।তখন চরমোনাইর এক মুজাহিদ দৌড়ে গিয়ে তাকে ধরে ফেলে এবং বাম পা দিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করতে অনুরোধ করেন।সেই ঘটনাটি মাওলানা হামিদ সাহেব রহ কে খুব অবাক করে।তিনি তাঁর ছাত্র ও বর্তমান হেফাজতে ইসলামের মহাসসচিব আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী কে বলেছিল,আমি চরমোনাইকে অন্যদিকে মনে করতাম।এখন দেখি তাদের চেয়ে সুন্নাত পালন করনে ওয়ালা বাংলাদেশ আর নেই।তা স্বত্বেও কতেকে চরমোনাইর বিরোধিতা করে মজা পায়।অপপ্রচার করে যান কিন্তু দিন শেষে লাভবান হচ্ছে চরমোনাই ওয়ালারা।

রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের বিএনপির পরেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর অবস্থান।যাদের মানতে ইচ্ছা করেনা তারা ডক্টর আ ফ ম খালিদ হোসেন সাহেব এর বক্তব্যটি ভালো করে শুনতে পারেন।তিনি একজন আন্তর্জাতিক মানের স্কলার।আর তিনি ঘোষণা দিলেন চরমোনাই থেকেই বিজয়ের পতাকা উড়বে।এবার চরমোনাইর ওলামা সম্মেলনে দেওয়া শীর্ষ আলেমদের মতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হকের উপর অবিচল রয়েছে।ক্ষমতার লোভে জোট মহাজোটে যোগ না দিয়ে একলা চলো নীতি অবলম্বন করে দলটি দিন দিন উন্নতি করছে।সুদক্ষ নেতৃত্ব,অনুগত কর্মী এবং সসর্বোপরি আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে দলটি অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।দালাল ভার্শন হালে পানি পাচ্ছে না।চরমোনাই মাহফিলে না গেলে বুঝানো যাবে না সেখানকার কর্মকান্ড কেমন। জীবনের প্রথম গিয়ে যা দেখলাম তা কল্পনাতীত। তাই কারো কথায় কান না দিয়ে দলীয় কর্মীদের উচিত পুরোদমে দলীয় কাজে মমনোনিবেশ করা।

লেখকঃনুর আহমেদ সিদ্দিকী

আপনার মতামত লিখুন :