হিংসুকদের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে ইসলামী আন্দোলন || নুর আহমেদ সিদ্দিকী

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:২৫ PM, ০৯ মার্চ ২০২১

রাজনীতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যে অবস্থান তৈরি করেছে সত্যিই সম্ভাবনার।রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ বিএনপির সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে দলটি।কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে তাদের দলীয় অবস্থান মজবুত। ইসলামী রাজনৈতিক দলের মধ্যে এই দলটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এক সময়ের শক্তিশালী ইসলামী দল ছিল জামায়াতি ইসলামী।বর্তমানে তারা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া। ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনীতিতে খুব দ্রুত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।একটা সময় মনে করা হতো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যারা করে তারা হলো, অশিক্ষিত,অর্ধ শিক্ষিত ও মূর্খ।কালের আবর্তে সেই ধারণা পাল্টে গেছে।দলটিতে এখন অভিজাত তথা এলিট শ্রেণির অংশগ্রহণ বাড়ছে।ডাক্টার,ডক্টর,প্রফেসর, শিক্ষক, আলেম,মুফতি,মুহাদ্দিসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণ জ্যামিতিকহারে বাড়ছে।সাবেক আমলাদের একটি অংশ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের প্রধান এবং পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ডক্টর আব্দুল লতিব মাসুম এর মত দেশের প্রথম শ্রেণির নাগরিকগন এখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যোগ দিতে শুরু করেছে।তিনি একজন শীর্ষ স্থানীয় রাজনৈতিক গবেষক।তিনি কি এমনিতেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগদান করেছেন? নিশ্চয়ই তিনি তাঁর রাজনৈতিক গবেষণায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সফলতা দেখেছে।তিনি বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা।ইনকিলাব পত্রিকার সহকারী সম্পাদক আল্লামা ওবায়দুর রহমান খান নদভী,ডক্টর আ ফ ম খালিদ হোসেন এর মত প্রজ্ঞাবান লোক এখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা।

কওমী ঘরানার দল হিসেবে সূচনা হলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখন গণমানুষের দলে পরিণত।বহু ত্যাগের বিনিময়ে দলটি ৩৪ বছর অতিক্রম করতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে দলটি এখন বিকল্প শক্তি। ২০০৮ থেকে ২০২১ এই তেরো বছরে দলটি ভোটের রাজনীতিতে চমক দেখাচ্ছে।সুষ্টু নির্বাচন হলে রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে যাবে।সম্প্রতি অনুষ্টিত পৌরসভা নির্বাচন গুলোতে অনেক ক্ষেত্রে নৌকা ধানের শীষের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে হাতপাখা।নিয়ন্ত্রিত কারচুপির নির্বাচনেও নৌকা ধানের শীষের সাথে পাল্লা দিতে শুরু করেছে হাতপাখা। দেশের মানুষ এখন তিনটি প্রতীক চিনে তা হলো, নৌকা,ধানের শীষ ও হাতপাখা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী এবং জমজমাট প্রচারণার মাধ্যমে রাজনীতিতে নতুন মাত্র যোগ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সৃজনশীল, গঠনমূলক, সময়োপযোগী কর্মসূচি,অনুগত কর্মী এবং সর্বোপরি দক্ষ নেতৃত্বের কারণ দলটি দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে। ডক্টর আ ফ ম খালেদ হোসেন বলেন,বিপ্লবের জন্য প্রয়োজন ভালো নীতি,ভালো নেতা,ভালো আদর্শ এবং শক্তিশালী সংগঠন। আলহামদুলিল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে এই চারটি গুণ রয়েছে।গত ২৪-২৭ বরিশাল চরমোনাইর ফাল্গুনের মাহফিলে দেশের শীর্ষ আলোমগন একবাক্যে স্বীকার করেছে ইসলামী বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।চরমোনাইর সকল মিশন আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশিত পথে চলছে বলেও তারা মত প্রকাশ করেছেন।

কোন ধরণের ভুল ভ্রান্তি খুঁজে না পেয়ে কতেকে চরমোনাইর ত্বরিকা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।রাজনৈতিক এতিমরা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সফলতা দেখে হিংসায় জ্বলছে।অনেকেই অরাজনৈতিক ব্যানার হেফাজতে ইসলামকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ক্ষোভ মেটায়।আবার অনেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কে কোণঠাসা করতে নাবালক মাওলানাকে অভিনন্দন জানায়।উন্নতি দাতা যদি স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা হয়ে থাকে তাহলে সেই উন্নতির বিরোধিতা করাও তো আল্লাহর ফায়সালার বিরোধিতা করা। কখনো হিংসা করে কারো উন্নতি ঠেকাতে পারবেন? নামধারী সেই ইসলামী দল আপনাকে সাপোর্ট দিয়ে গাছের ডগায় তুলছে ঠিক কিন্তু আর নামাবে না। তখন পরে হাত পা ভেঙ্গে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন।তবে,একটা বিষয় হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সেই সব হিংসুকদেে হিংসায় মোটেও বিচলিত নয়।বরং তারা হিংসুকদের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন।

লেখকঃনুর আহমেদ সিদ্দিকী

আপনার মতামত লিখুন :