সংবাদ সম্মেলনঃ একটি পর্যালোচনা

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:১৫ PM, ২৩ মার্চ ২০২১

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বুঝে শুনে যথাসময়ে সামনে পা বাড়ায়।শক্তি সামর্থ অনুযায়ী কথা বলে। সে কারণে হয়তো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর অবস্থান বুঝতে একটু সময় লাগে।শাসকদল সুবর্ণজয়ন্তীতে মোদি কে আনবেই আনবে।প্রতিবাদ প্রচুর হয়েছে, হচ্ছে। কিন্তু তারা সেসব কানে নিচ্ছে না।তাদের মদদতে যেহেতু সরকার ক্ষমতায় সেহেতু লাশের উপর লাশ পড়লেও মোদিকে তারা আনবে।আজকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তিনটি ইস্যুকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলন করেছে।১) স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মোদির আগমন ও সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন,২) শাল্লার ঘটনার সুষ্টু ও নিরপেক্ষ তদন্ত,৩) আসন্ন ইউপি নির্বাচন সুষ্টু ও নিরপেক্ষ করার দাবি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই মোদির কঠিন সমালোচনা করেছেন।তাকে দাওয়াত করা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী কে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলেও তিনি মনে করেন।মোদি ছাড়া অন্যান্য দেশ থেকে আগত মেহমানদের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে মেহমানদারি করারও ঘোষণা দিয়েছেন। একটি রাজনৈতিক দলের অন্যান্য দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকতে হয়।সেই হিসেবে অন্যান্য দেশ থেকে আগত মেহমানদের মেহমানদারীর মাধ্যমে সেসব দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হতে পারে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক দল।তাদের মত করে তারা কর্মসূচি দিবে কি দিবেনা সেটা তাদের একান্ত ব্যাপার।একটি বিষয় খেয়াল করেছি তা হলো হেফাজতে ইসলামে যে সব দল আছে তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড হারিয়ে যাচ্ছে।তারা অতিমাত্রায় হেফাজত সাজার কারণে এমনটা হচ্ছে।এক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে।দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে হেফাজতে ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করেছে গতকাল।এটা অনেকটা প্রশংসার। অন্তত সংবাদ সম্মেলন করে তাদের অবস্থান জানান দিয়েছে।কিন্তু যারা হেফাজতে ইসলামে আছে তাদের দলীয় অবস্থান কি? তারাও পারতো ইসলামী আন্দোলনের মত সংবাদ সম্মেলন করে সুবর্ণজয়ন্তীতে আলাদা আলাদা কর্মসূচি ঘোষণা করতে।কিন্তু তারা সেটা পারেনি অতিমাত্রায় হেফাজত সাজার কারণে।হেফাজতের ব্যানার কে সামনে রেখে কিছুটা ফায়দা হলেও নিজের দল ও কর্মকান্ড হারিয়ে যাচ্ছে।হতাশ হচ্ছে কর্মীরা।এই কারণে হেফাজতের কমিটিতে ইসলামী আন্দোলন থেকে কাউকে না রাখাটা উত্তম মনে করেছি।

সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশ ব্যাপি বিশাল বিশাল কর্মসূচির জন্যে প্রস্তুত জেলা,মহানগর,থানা ও ইউনিয়ন।ইতোমধ্যে সেই নির্দেশনা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে পৌঁছে গেছে।ইসলামপন্থী অন্যান্য দল হেফাজতে ইসলামকে নিয়ে অতিমাত্রায় মাতামাতি করার কারণে তাদের দলীয় কর্মকান্ডে ভাটা পড়েছে।বলছি না এটা হেফাজতের দোষ।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কর্মকান্ডে সৃজনশীলতা,
সময়োপযোগীতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।আজ অনেকেই সংবাদ সম্মেলন থেকে মোদি বিরোধি কর্মসূচি না দেওয়ায় ইসলামী আন্দোলন নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেছে।তারা গতকাল হোফাজতের সংবাদ সম্মেলনের পরে এমন অশালীন মন্তব্য করেছিল।তাদের মধ্যে যাচাই করে দেখলাম তাদের সিংহভাগ বিএনপি জামায়াতের লোক।যারা পরের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খেতে অভ্যস্ত। এতোদিন যারা মামুনুল হক কে মাথায় তুলো নেচেছিল তারাও মন্তব্য করছে মামুনুল হক সরকার থেকে টাকা খেয়েছে।

কি আজব ভক্তরে ভাই।এরা দুইদিন আগে মামুনুল হকের পক্ষ নিয়ে অন্যদের তুলোধোনা করেছে।আজ তারাই মামুনুল হক সাহেব কে সরকারের দালাল বলছে।ভক্ত থাকা ভালো কিন্তু এমন ভক্ত থাকলে গালি শুনতে হয়।আমি মামুনুল হক সাহেব কে নিয়ে পজিটিভও লিখিনা।কারণ জামায়াত শিবিরের ভাইগন তার পক্ষ নিয়ে আবার আমাকে কাফের বানিয়ে দেয় কিনা। অথচ বিএনপি জামায়াত মোদি ইস্যুতে সম্পূর্ণ নিরব দর্শকের ভূমিকায়।তারা মামুনুল হক সাহেব কে বাহবা দিয়ে মোদি বিরোধি আন্দোলনে নামাতে চাইছে।মামুনুল হক বিপদে পড়লে তখন মজা নিবে।এটাই জামায়াতের নীতি।সুতরাং এমন ভক্তদের বাহবা পেয়ে খেই হারিয়ে ফেলা উচিত নয়।তারা বাহবা ততক্ষণ দিবে, যতক্ষণ তাদের পক্ষে ব্যবহার হবেন।

হেফাজত এবং ইসলামী আন্দোলন কঠিন আন্দোলন না যাওয়াটা এক প্রকার বিচক্ষণতা বলা চলে।যারা উস্কানি দিচ্ছে তাদের দল মোদিকে স্বাগত জানাচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদে মোদি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে প্রথম অভিনন্দন জানিয়েছিল জামায়াতের পক্ষ থেকে।তারপরও যখন হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কে নিয়ে ট্টল করে তখন বড্ড হাসি পাই।বর্তমান রাজনীতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।শাল্লার ঘটনায় কোন রাজনৈতিক দল পরিদর্শনে যায়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ছাড়া। এটা চরমোনাইর পীর সাহেব এর রাজনৈতিক বিচক্ষণতা।হুটহাট করে কঠিন কর্মসূচি দিয়ে শক্তি নিঃশেষ করা বোকামী।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কাজের প্রতিক্রিয়া কি হবে সেটা ভেবে সামনে পা বাড়ায়।যারা উস্কানি দিচ্ছে তারা চাইছে ইসলামী আন্দোলনের শক্তি নিঃশেষ হোক।

লেখকঃনুর আহমেদ সিদ্দিকী

আপনার মতামত লিখুন :