লকডাউন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে বোবাকান্না গরিবের | নুর আহমেদ সিদ্দিকী

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:১৪ PM, ০৮ এপ্রিল ২০২১

দেশব্যাপি লকডাউন চলছে।নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রুব্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে চলছে।চাল,ডাল,তেল,পেঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম পাগলা ঘোড়ার ন্যায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।আজ মধ্যবিত্ত আর নিম্মবিত্তের লোকজন অসহায় হয়ে নীরবে নিবৃত্তে কাঁদছে।এই কান্না সরকার অব্ধি পৌছায় না।মানুষের জন্য যদি রাজনীতি হয় তাহলে প্রথমে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম গরিব ও অসহায় মানুষের ক্রয় ক্ষমতায় মধ্যে রাখুন। তা না করে আজ আমরা ক্ষমতার দ্বন্ধে লিপ্ত।কেউ ক্ষমতায় যেতে,কেউ বা ক্ষমতায় থাকে মরিয়া।লকডাউন দিয়েছন মানুষের নিরাপত্তার জন্যে।মরণ ব্যধি করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকার জন্য লকডাউন আর স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলছেন।

সরকার প্রধান কি একটুও চিন্তা করেছে অসহায় গরিব মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের যোগান কে দিবে? রিক্সাওয়ালা, ভ্যানওয়ালাসহ যারা দিনে এনে দিনে খায় তাদের কথা কি দেশের হর্তাকর্তারা চিন্তা করেছে।মানুষের কান্না আর সহ্য হচ্ছে না।রিক্সাওয়ালাদের রিক্সার গদি উপড়ে ফেলেছে পুলিশ।সেই রিক্সাওয়ালাদের কান্না দেখে হৃদয়টা ধুমড়ে মূছড়ে যাচ্ছে।তারা পেটের দায়ে রাস্তায় বের হচ্ছে।তাদের খাদ্যের ভার কি সরকার নিতে পেরেছে? পারেনি।তারা ঘর থেকে বের হতোনা যদি সরকার তাদের খাদ্য সরবরাহ করতো।তারা ত্রাণ প্রণোদনা চায়না।তাদের রুটির রূজির ব্যবস্থা তাদের নিজেদের করতে হয়।গরিব অসহায় মানুষরা অন্যের কাছে হাত পাততে পারলেও শিক্ষিত,মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোর বোবাকান্না বেড়েই চলছে।

চারদিকে নিরব দুর্ভিক্ষ চলছে।চলছে বোবা কান্না। গরিব অসহায়রা শব্দ করে কাঁদতে পারলেও মধ্যবিত্তের লোকজন জনসম্মুখে কাঁদতে পারেনা।তাদের অশ্রুঝরে লোক চক্ষুর আড়ালে।আজ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার একটি রিপোর্ট দেখলাম।সেখানে দেখলাম,লকডাউনে গরিব আরো গরিব হয়েছে,ধনীরা আরো ধনী হয়েছে।অনেকে বলছে,দ্বিতীয় দফা লকডাউন পলিটিক্যাল লকডাউন।রাজনৈতিক রেষারেষি হোক আর যাই হোক,লকডাউন দিয়ে অসহায় মানুষকে মারবেন না।সামনে রমজান। রমজানকে সামনে রেখে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখুন।সাধারণ মানুষ ক্ষমতায় কে থাকবে, না থাকবে সেটা নিয়ে ভাবেনা।তারা দু’মুঠো অন্নের জন্য হন্য হয়ে ঘুরছে।জনগনের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।

বিগত নয় মাস ধরে কওমী মাদরাসা গুলো খোলা ছিল।এতে একজনও করোনা আক্রান্ত হয়নি।তা স্বত্বেও কওমী মাদরাসা গুলো বন্ধ করে দেওয়ার কোন মানে হয়না।সারা দেশে হিফজ মাদরাসা গুলোতে প্রতিনিয়ত কুরআন তেলাওয়াত হয়।এতে করে দেশে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়।করোনার অজুহাতে হিফজ মাদরাসা গুলো বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।মানুষ কতটা অসহায় জীবন যাপন করছে তা সরকারের এমপি মন্ত্রীরা দেখছে না।এসি রোমে লকডাউন ঘোষণা করা যতটা সহজ বাস্তবতা ততটা কঠিন।ব্যবসায়িরা রাজপথে নামছে,মটরচালকরাও পেটের দায়ে আন্দোলন করছে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিপাকে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।যারা টিউশন করে পরিবার চালাতো তারা চরম বিপাকে।পরিবারে চলছে বোবা কান্না। কিন্ডারগার্ডেনের শিক্ষক শিক্ষিকার নিমীরব কাঁদছে ।আম জনতার কথা ভেবে সরকারের উচিত লকডাউন তুলে দেওয়া।স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কঠোর পদেক্ষেপ নিন।তবুও লকডাউন তুলে নিন।আশা করি সরকার আজ থেকে আর লকডাউন ঘোষণা করবেনা।

লেখকঃনুর আহমেদ সিদ্দিকী

আপনার মতামত লিখুন :