ইসলামী আন্দোলন কোনপন্থী? || নুর আহমেদ সিদ্দিকী

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৩৩ PM, ১০ এপ্রিল ২০২১

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কে অনেকেই আওয়ামী লীগের দালাল বলে।এটা নিছক ও হাস্যকর কথন।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কাউকে ক্ষমতায় বসাতে ও ক্ষমতা থেকে নামানোর রাজনীতি করেনা। আওয়ামী লীগ কে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে বিএনপিকে অথবা,বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য রাজনীতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অতীতেও করেনি,বর্তমানেও করছে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না ইনশাআল্লাহ।একটি দেশে বসবাস করতে হলে সব দলের নেতা কর্মীদের সাথে মিশতে হবে,কথা বলতে হবে।রাজনৈতিক আদর্শ এক জিনিস,আর পারস্পরিক যোগাযোগ সম্পর্ক ভিন্ন জিনিস।আমার সাথে অফলাইন ও অনলাইন ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীদের সাথে সম্পর্ক আছে।তার মানে এই নয়,যে আমি আওয়ামী লীগ করি।বন্ধু তালিকায় শতাধিক ছাত্রলীগ যুব লীগের নেতা কর্মী আছে।তাদের সাথে পারিবারিক, ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে।সেটা রাজনৈতিক নয়।

সব কিছুকে রাজনীতি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনীতির সূচনা পীর মুরিদি থেকে।তারা যেমন রাজনীতি করে,তেমনি তারা ব্যক্তির আত্মশুদ্ধির কাজও করেন।চরমোনাইর মাহফিলে সকল দল মতের লোকজন যায়।ক্ষমতাসীন দল,বিরোধি দলের নেতা কর্মীদের হাত পায়ে ধরে মাহফিলে নিয়ে যায় তারা।একজন মানুষকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি বানানোর কাজ করে।চরমোনাইর পীর সাহেব হাতে পায়ে ধরে ইসলামের সঠিক পথে আহবান করেন।জাহান্নাম থেকে বেঁচে কিভাবে জান্নাতে যাওয়া যায় সেভাবে পথ দেখিয়ে দেয়। রাজনৈতিক কারণে পীর সাহেব চরমোনাই কঠিন সমালোচনা করলেও দ্বীনি কারণে তিনি সবার কল্যাণ কামনা করেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নেতা কর্মীরা সরকারী দল, বিরোধি দলের নেতাদের সাথে অনেক ক্ষেত্রে সুসম্পর্ক রাখে দ্বীনের স্বার্থে।কিভাবে একজন ছাত্রলীগের ভাইকে চরমোনাই নিয়ে যাওয়া যায়,কিভাবে তাদের নামাজি দ্বীনদার বানানো যায় সেই ফিকিরে থাকেন। চরমোনাইর মাহফিলের সূচনা হয়েছিল সম্ভবত ১৯২৫ সালে।প্রায় ১০০ বছর ধরে চলে আসছে চরমোনাইর মাহফিল।দলমত নির্বিশেষ সবাই চরমোনাইর মাহফিলে অংশগ্রহণ করে।কত আওয়ামী লীগের বড় নেতারা মাহফিলে সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যায় তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই।রাজনৈতিক কারণে অন্যান্য দলের সাথে মতবিরোধ থাকলেও দ্বীনি কারণে তারা সবার সাথে বন্ধু সুলভ আচরণ করেন।

এবার চরমোনাইর মাহফিলে যুগান্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী ৭০ লক্ষ মানুষ হয়েছে।এখানে কমপক্ষে ২০ লক্ষ মানুষ অন্যান্য দলের।যে দলই করুক না কেন সবাইকে চরমোনাইর মাহফিলে স্বাগত জানাতে দ্বিধা করে না।অনেকে চরমোনাইর তথা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর উপর দমন পীড়ন না চালানোতে হা হুতাশ করছেন।তাদের পেটের ভাত হজম হয়না,কেন চরমোনাই ওয়ালাদের সরকার জামায়াতের মত মেরে কোণঠাসা করছেনা।সবাই জানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জ্বালাও পোড়াও নীতিতে বিশ্বাসী নয়।তারা শান্তি শৃঙ্খলার সহিত রাজনীতি করতে ভালোবাসেন।সরকার ও প্রশাসনও জানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সহিংসতায় বিশ্বাসী নয়।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করছে।তড়িগড়ি করে ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি করে না।

বিএনপি আওয়ামী লীগের বাইরে থেকে ইসলাম,দেশ ও মানবতার কথা বলে যাচ্ছে দলটি।সকল সেক্টরে ইসলামের সুমহান আদর্শকে পৌছে দিতে বদ্ধপরিকর।সরকারী দল,বিরোধি দলে চরমোনাইর পীর সাহেব এর অসংখ্য ভক্ত ও মুরিদ রয়েছে।রাজনৈতিক সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে আত্মশুদ্ধির কাজ করেন।মাহফিলে রাজনৈতিক বক্তব্য না দিয়ে মানুষকে দ্বীনের পথে আনার চেষ্টা করেন পীর সাহেব চরমোনাই।রাজনীতির মাঠে যতটা অগ্নিঝরা ভাষণ দেন ঠিক তার বিপরীত কাজ করেন মাহফিলে।চরমোনাই পীর সাহেব ও শায়েখে চরমোনাইন মাহফিল গুলোতে কান্নার রোল পড়ে।জাহান্নাম,কবর,হাশর, পুলসিরাত নিয়ে বয়ান করার সময় স্রোতাদের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে।মাহফিলে রাজনৈতিক আলাপ করা তাদের নীতির পরিপন্থী। তাই তারা রাজনৈতিক মাঠে রাজনৈতিক বক্তব্য আর মাহফিলের মাঠে ইসলামের সুমহান আদর্শকে মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌছে দেয়।এই কারণে তাদের সাথে সরকার ও বিরোধি দল সবার সাথে সম্পর্ক থাকে।অনেকে সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে চরমোনাইর পীর সাহেব কে আওয়ামীপন্থী,তাদের দালালসহ নানান অপবাদ দিয়ে থাকেন।প্রকৃতপক্ষে পীর সাহেব চরমোনাই কোন পন্থী নয়,বরং তিনি ইসলামপন্থী।

#লেখকঃনুর আহমেদ সিদ্দিকী

আপনার মতামত লিখুন :