সাংবাদিকতার ভরাডুবি, সাংবাদিকদের ভরাডুবি

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:২৪ AM, ২৫ মে ২০২১

সাংবাদিকরা হচ্ছেন জাতির বিবেক, সংবাদপত্র হচ্ছে সমাজের আয়না। অন্যায়-অবিচার, লুটপাট আর সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবিরাম যাঁদের ছুটেচলা। যারা স্বপ্ন দেখে একটি সুন্দর, সু-শৃঙ্খল সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ার। যাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা আর লেখনির মাধ্যমে বেরিয়ে আসে চরম-বাস্তবতা আর কঠিন সত্যগুলো। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা সার্বক্ষণিক কাজ করেন মাঠে-ময়দানে। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে হায়েনাদের রক্তচক্ষু দেখতে হয় যাদের প্রতিনিয়ত। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কখনো কখনো দুর্নীতিবাজদের হাতে নির্যাতিত হতে হয়, হতে হয় নানা ষড়যন্ত্রের শিকার।

বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা পেশায় টিকে থাকাটাও অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। একদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে মানুষরুপি হায়েনাদের দ্বারা নির্যাতন। অপরদিকে বিচার না পাওয়ার শঙ্কা। রাষ্ট্র ও আইনের নানা জটিলতাও যেন পিছু নেয় সবমসয়। এমন পরিস্থিতিতে দলে দলে বিভক্ত হয়ে রয়েছে সাংবাদিক সংগঠনগুলো। প্রতিযোগিতার মাঠে প্রতিহিংসা আর আন্তরিকতা ভুলে ঘৃণাকে আঁকড়ে ধরা যেন নেশায় পরিণত হয়েছে সাংবাদিক মহলে। বিশেষ করে অনেক মফস্বল সাংবাদিক সংগঠনগুলোর কথা না বললেই নয়। যেখানে সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা আর প্রতিহিংসায় প্রতিপক্ষকে ঘাঁয়েল করাই যাদের নিত্যদিনের রুটিন। একে-অন্যের প্রতি নিয়মিত ছড়াচ্ছে বিষেদ্বাগার। নিজের মত আর ব্যক্তি স্বার্থকে হাসিল করতে যা মন চাচ্ছে তাই করে চলছে। নামে-বেনামে প্রতিষ্ঠা করছে সংগঠন এবং দল ভারি করতে অসাংবাদিকদের টানা হচ্ছে সংগঠনে। যার দ্বারা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সাংবাদিকতা ও সংবাদ মাধ্যম। সাধারণ মানুষের কাছে কমছে প্রকৃত সাংবাদিকদের গ্রহণযোগ্যতা।

যারা সাংবাদিকতা করেন তাদের অন্তত কিছুটা জ্ঞান রাখা দরকার যে ‘সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা, এই পথটাও অনেক পিচ্ছিল। এটা নিজের সুবিধা আর স্বার্থ হাসিল করার জায়গা না।’ এখানে ‘যারা পেশাকে পুঁজি করে ব্যক্তি সুবিধা আর স্বার্থ হাসিল করতে চায়; তারা বেশিদিন এই পেশায় টিকে থাকতে পারে না।’ এ বিষয়গুলো মাথায় রেখেই সাংবাদিকতা করতে হয়। আর সাংবাদিক নেতার হতে হলে তো হৃদয়কে সমুদ্রের চেয়ে বিশাল বানানো চায়, যা আমাদের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা চিন্তাই করতে পারে না।

প্রশ্ন হল- এমন মানসিকতা নিয়ে সাংবাদিকরা চাইলেই কি সমাজকে আলোকিত করতে পারবে, নাকি এর থেকে বেরিয়ে আসা দরকার? আমরা কি নিজেদের পরিচ্ছন্ন করতে পারি না, এভাবে একে-অন্যের পিছনে লেগে থাকার এমন ঘৃণ্য-মানসিকতা আমাদের বদলাবে কবে?

লেখক: শিপার মাহমুদ (জুম্মান)
স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক উত্তরা নিউজ

আপনার মতামত লিখুন :