চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত সিআরবি বাঁচান

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৪৪ PM, ১৩ জুলাই ২০২১

স্থানীয় প্রতিনিধি:

গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান বলে যে সময়ে স্লোগান উঠে ঠিক সেই সময়ে চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত সিআরবি থেকে শতবর্ষী বৃক্ষ নিধন করে গড়ে তুলতে চাইছে হাসপাতাল।আমি একজন প্রকৃতি প্রেমি হিসেবে এর তীব্র বিরোধিতা করছি।ইট পাথরের যান্ত্রিক শহরে মানুষ সবুজে আবৃত দূষণমুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে যায়।যান্ত্রিক নগরীর মানুষ এই নৈসর্গিক, নয়নাভিরাম, চোখ জুড়ানো দৃশ্য দেখে তৃপ্তির সাথে সতেজ বাতাসে শ্বাস নেয় । বিশাল আকৃতির গাছের ছায়ায় বসে ভুলে যায় যান্ত্রিক নগরীর গ্লানি,হতাশা,না পাওয়ার বেদনা।সতেজ হাওয়ায় তনু মন হয়ে উঠে ফুরফুরে। নান্দনিক প্রাসাদ ছেড়ে মানুষ এক টুকরো রূপসী বাংলার রূপ রসে নিজেকে মাতিয়ে তুলতে আসে।

ক্লান্ত দেহে,চিন্তিত মনে মানুষ সিআরবিতে এসে সতেজ হাওয়ায় নিজের তনু মন কে ফুরফুরে করে। সবুজ শ্যামল রূপের এক অনন্য অঙ্গন সিআরবি।যুগ যুগ ধরে সবুজে ঘেরা বিশালাকৃতির গাছ গুলো একে অন্যের সাথে যে সম্পর্ক গড়েছে তা সহজে ভোলবার নয়। সকাল সন্ধ্যা পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে সিআরবি।যান্ত্রিক নগরীতে যখন গার্মেন্টস, কলকারখানা এবং গাড়ির মাত্রাতিরিক্ত শব্দে আমাদের কান ঝালাপালা হয়ে যায় তখনই একটু নিরিবিলি এই সবুজ অঙ্গনে ঘুরে আসি।পাখির কলকাকলিতে মুখরিত এই অঙ্গনে কিছুক্ষণ থাকলে মনে হবে শহরের অদূরে কোন সবুজ শ্যামল গ্রামে বসে প্রকৃতির রূপ লাবণ্য ও সৌন্দর্য উপভোগ করছি।

কিছু গাছের বয়স শত বছর।কিছু গাছ দুইশ বছর থেকে দাঁড়িয়ে আছে নির্বিকার চিত্তে ।হাজারো পাখির আশ্রয়স্থল এই বিশালাকৃতির গাছ গুলো।যাদের ছায়ায় বসে মনের মাধুরি মিশিয়ে করতে পারে গল্প।পরিবার পরিজন নিয়ে নগর জীবনের ব্যস্ততা ভুলে, কাজের ভারে হাঁপিয়ে উঠা মানুষ সস্থির নিঃশ্বাস ফেলতে সিআরবিতে যায়।এই সবুজ শ্যামল,নৈসর্গিক, হৃদয় জুড়ানো সিআরবি কে বাঁচান।হাসপাতাল করতে হলে অন্যত্র করুন।চট্টগ্রামের পতেঙ্গা,ইপিজেড এলাকায় কোন হাসপাতাল নেই।হাসপাতাল করতে হলে সেই অবহেলিত এলাকায় করুন।সিআরবির বৃক্ষ নিধন করে হাসপাতাল গড়ে তুলা থেকে বিরত থাকুন।

লেখকঃনুর আহমেদ সিদ্দিকী

আপনার মতামত লিখুন :