রামগঞ্জে শতাধিক লাশ দাফন করে আলোচনায় শিক্ষক সেলিম

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:০৩ PM, ১৪ অগাস্ট ২০২১

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা: 

করোনা মহামারীর দূর্যোগ মুহুর্তে লক্ষীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় শতাধিক লাশ দাফন করে ব্যাপক প্রসংশাসহ আলোচনায় একজন মানবিক করোনা যোদ্ধা শিক্ষক সেলিম হোসেন। চারদিকে যখন করোনায় আক্রান্ত রোগীর স্বজনরা অক্সিজেনের জন্য হা’ হা’ কার ঠিক তখনই নোয়াখালী পুলিশ অক্সিজেন ব্যাংক ও ট্যাক্স টাউন গ্রুপ এর সহয়তায় নিয়ে রামগঞ্জে করোনায় আক্রান্তদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে পাশে দাঁড়ালেন রামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম শোশালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ সেলিম হোসেন।

সুত্রে জানাযায়, করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু থেকে কোথাও করোনা কিংবা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হলে লাশের গোসল, জানাজা ও দাফন নিয়ে বিপাকে পড়তেন পরিবারের লোকজন। প্রতিবেশীদের চাপের মধ্যে গৃহবন্দীও হয়েছেন বহু মৃত ব্যক্তির স্বজনরা। এ অবস্থায় রোদ, বৃষ্টি, ঝড়সহ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে লাশের গোসল, জানাজা ও দাফন করেছেন দরবেশপুর ইউনিয়নের চৌকিদার বাড়ির মৃত নুর মিয়ার ছেলে মোঃ সেলিম হোসেনের নেতৃত্বে ৫জন সদস্য। এ পর্যন্ত তারা উপজেলার শেফালীপাড়া এলাকার তছলিম উদ্দিন, আশার কোটা এলাকার মমতাজ বেগম, নন্দন পুর এলাকার রহুল আমিন, বদরপুর এলাকার আবুল কাশেম, শ্রীরামপুর এলাকার জাহানারা বেগম, পশ্চিম শোশালিয়া এলাকার কোহিনূর বেগম ও নূরনবী, দরবেশপুর এলাকার শিশু সিফাত, জগৎপুরের সাহাব উদ্দিন, আউগানখীল এলাকার আবদুল হালীম পাটওয়ারী, পূর্ব শোশালীয়া এলাকার রাইছা আক্তার, লামচরের নুরুল হুদা ও ইছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সহিদ উল্যাসহ এ পর্যন্ত করোন ও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শতাধিক লাশের দাফন কাজ সম্পুর্ন করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা লাশ দাফন কমিটির দলনেতা মোঃ সেলিম হোসেন বলেন, আমরা করোনা ও উপস্বর্গ নিয়ে মারা যাওয়া প্রায় শতাধিক মৃত ব্যাক্তির লাশ দাফন করেছি। যেখানেই করোনা আক্রান্ত রোগী শ্বাসকষ্ট ভুগছেন আমরা খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে গিয়ে অক্সিজেন সেবা দিয়ে আসছি । কিছু মানুষ নেগেটিভ প্রচারণার ফলে সমাজে করোনা রোগীর সঙ্গে অমানবিক ও অপরাধীর মত আচরণ করতে দেখেছি। করোনা রোগীর কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা। করোনায় মৃতদেহ দাফনে পাওয়া যাচ্ছে না লোকবল, এলাকাবাসী জানাজাও পড়ছেন না। অথচ ইসলামে মহামারি ও দুর্যোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এমন ভয়াবহ অবস্থায় করোনা রোগীর প্রতি মানবিক সহায়তা, অক্সিজেন সেবা ও করোনা লাশ দাফনে আমরা শুরু থেকে কাজ করে আসছি।

আপনার মতামত লিখুন :