বিএনপির সেই ইসলামী মূল্যবোধের বয়ান নিভৃতে কাঁদছে

বার্তাকক্ষবার্তাকক্ষ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:০১ PM, ১২ অক্টোবর ২০২১

একটা সময় চারদলীয় জোট সরকারকে ইসলামী মূল্যবোধের সরকার বলে বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতারা ক্যাম্পেইন করতো।সেই ইসলামী মূল্যবোধের বিএনপির কাছে আজ ইসলামী দল গুলো মূল্যহীন আবর্জনা তুল্য। ১৯৯৯ সালে গঠিত চারদলীয় জোটের নেতৃত্ব দানকারী বিএনপি দীর্ঘ তিন টার্ম ধরে ক্ষমতার বাইরে।যদিও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি।সে সময় ইসলামী ঐক্যজোট,জাতীয় পার্টি, জামায়াত ও বিএনপি মিলে গঠিত হয়েছিল চারদলীয় ঐক্যজোট।ইসলামী দলগুলোকে অবহেলার অভিযোগ নতুন নয়।সেই পাওয়া, না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে ২০১৬ সালে বিএনপির জোট ছেড়েছে ইসলামী ঐক্যজোট।আর ২০২১ সালে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট( পূর্বে চারদলীয়জোট) ছেড়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও মাওলানা ইসহাকের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিস।গতকাল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহাজাহান ওমর, সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছে,ইসলামী দলগুলো হলো আবর্জনা তথা ঝুটা পার্টি বরং এগুলো চলে গেলেই ভালো।এরই মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির আরেক নেতা সাংবাদিক কে জানিয়েছে বিএনপি জামায়াতকে তালাক দিতে যাচ্ছে বিএনপি।

অনেকে শাহাজাহান ওমরের বিরুদ্ধে ক্ষেপেছে।আমি শাহাজাহান ওমরের বিরোধিতার কারণ দেখছি না।এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আল্লামা শফি রহ কে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করেছিল।কিন্তু বিএনপি জোটে থাকা জমিয়ত,খেলাফত মজলিস,ইসলামী ঐক্যজোট কোন প্রতিবাদ করেনি।শুধু তাইনা,মির্জা ফখরুল ইসলাম বলোছিল আমরা শরীয়াহ আইনে বিশ্বাস করিনা।তখনও এসব ইসলামী দলগুলোর নেতারা টু শব্দ করেনি জোটের স্বার্থে।এক সময় মুফতি আমিনি রহ,মাওলানা নুর হোসেন কাসেমী,মাওলানা ইসহাকসহ বিএনপি জোটে থাকা কওমী ঘরানার ইসলামী গুলোর নেতারা বিএনপিকে ইসলামী মূল্যবোধের সরকার বলে সরলমনা মুসলমানদের ভোট গুলো বিএনপি পক্ষে নিয়েছিল।বড় বড় আলেমদের ক্যাম্পেইনের কারণে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতা বিএনপিকে ভোট দিয়েছিল।কিন্তু ২২ বছর পরে এসে বিএনপি ইসলামী দলগুলোকে আবর্জনা,সু্বিধাবাদী বলে কটুক্তি করছে।এতেও জোটভুক্ত ইসলামপন্থী দল গুলোর মান যাচ্ছে না।কওমী ঘরানার ইসলামী দলগুলো বিএনপি জোট ছাড়লেও জামায়াত এখনও জোট ত্যাগ করছে না।এই যেন ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলেও বিএনপি জোট ছাড়তে নারাজ জামায়াত।ন্যুনতম আত্ম মর্যাদাবোধ থাকল চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে জোট ত্যাগের ঘোষণা দিতো জামায়াত।

২০০১ সাল থেকে ২০২১ এই একুশ বছর ধরে বিএনপি জোটে থাকা ইসলামী দলগুলো তাদের সুখে দুঃখে পাশে ছিল।কিন্তু আজ তাদের আবর্জনা / ঝুটা পার্টি বলে অপমান অপদস্থ করছে বিএনপি।বাস্তবতা হলো,বিএনপি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি ইসলামী দলগুলোকে টিস্যুর মত ব্যবহার করে মাত্র।ব্যবহার শেষে নির্দয়ভাবে ডাস্টবিনে ছুড়ে মারে।যেমনটা বিএনপি ইসলামী দল গুলোকে ২২ বছর টিস্যুর মত ব্যবহার করে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলেছে।সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই হয়তো ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন( বর্তমান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) এর আমির মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করিম পীর সাহেব চরমোনাই রহ ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে বিএনপির চারদলীয়জোটে যোগ দেয়নি।বিএনপিতে যোগ না দেওয়ায় চরমোনাইর পীর সাহেবকে চারদলীয় জোটের ইসলামী দলগুলো আওয়ামী লীগের দালাল বলে এসেছে।দীর্ঘ ২১/২২ বছর ধরে চরমোনাইর পীর সাহেব ও তাঁর দলকে আওয়ামী লীগের দালাল বলে ২০২১ সালে এসে রিক্ত হস্তে অপমানিত ও অপদস্থ হয়ে বিএনপি জোট ছাড়ছে ইসলামী দলগুলো।নীতি আদর্শ বিসর্জন না দিয়ে একলা চলো নীতি অবলম্বণ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনীতিতে বিকল্প শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।যারা চারদলীয় জোট যোগ দিয়ে বিএনপির সুখে দুঃখে পাশে ছিল সেসব দলগুলো এখন অস্থিত্ব সংকটে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর যে অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে তা একদিনে হয়নি।দীর্ঘ ২২ বছর ধরে তারা ক্ষমতার লোভ পরিহার করে নিজেদের শক্তি সঞ্চয় করেছে।হাঁটি হাঁটি পা পা করে তৃণমূলে বিস্তৃতি লাভ করেছে দলটি।সংসদ থেকে স্থানীয় সকল নির্বাচনে প্রচার প্রচারণায় আওয়ামী লীগ বিএনপি থেকে কম নয়।গতকাল বাংলা টিব্রিউনে একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিলো,স্থানীয় নির্বাচনে সক্রিয় হচ্ছে ধর্মভিত্তিক দল গুলো।সেখানে বলা হয়েছে,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিয়মিত নির্বাচন করে আসলেও নতুনভাবে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছে জমিয়ত,খেলাফত মজলিস ও ইসলামী ঐক্যজোট।এসব দলগুলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর ন্যায় একলা চলো নীতি অবলম্বণ করতে চায়।সে কারণে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলে জানা যায়। যদিও বিএনপি জোটে থাকাকালীন এসব দল গুলো বিএনপির ভোট কাটার জন্যে ইসলামী আন্দোলন হাতপাখা নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়ায় বলে অভিযোগ করতো। রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ বিএনপির পরে ভালো অবস্থানে আছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।সময়োপযোগী কর্মসূচি,সুদক্ষ নেতৃত্ব, দলীয় প্রধানের আপসহীনতা,দক্ষ ও অনুগত কর্মীবাহিনী, নীতি আদর্শ বিসর্জন না দিয়ে একলা চলো নীতি গ্রহণ করার কারণে দলটির দিন দিন অগ্রগতি বাড়ছে।পরিশেষে বলতে হয়,চারদলীয়জোটে যোগ না দিয়ে মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করিম পীর সাহেব চরমোনাই রহ দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছিল।তৎকালীন যারা চরমোনাইর পীর সাহেব রহ কে দালাল বলে অপবাদ,তোহমত দিয়েছিল তারা, হয় ক্ষমতার মোহে অন্ধ ছিল,নয়তো অদূরদর্শী ছিল।

লেখকঃনুর আহমেদ সিদ্দিকী

আপনার মতামত লিখুন :